নামাজ সম্পর্কে সকল হাদিস চেয়ারে বসে নামাজ। হিজরাদের নামাজ। নামাজের মাকরূহ সমূহ | নামাজ না পড়ার কঠিন শাস্তি | ইচ্ছেয় বা অনিচ্ছায় নামাজ কাযা করার শাস্তি | প্রমান সহ দেয়া
আসুন আমরা একটা হাদীস শরীফ দেখব, যেখানে নামাজ ক্বাজা করার শাস্তির কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। হাদীস শরীফে বর্নিত রয়েছে -
من ترك الصلوة حتي مضي وقتها ثم قضي عذاب في النار حقبا و الحقبة ثمانون سنة واسنة ثلث ماءة و ستون يوما كان مقداره الف سفة
অর্থাৎ: যে ব্যক্তি নামাজ তরক্ব করল, এমন কি নামাজ এর ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেল অতঃপর সে তার ক্বাযা আদায় করল, সে জাহান্নামে এক হুকবা শাস্তি ভোগ করবে। আর এক হোকবা হচ্ছে ৮০বছর এবং এক বছর সমান ৩৬০ দিন। প্রতিটি দিন হচ্ছে হাজার বছরের সমান। ভাবুন 😭😭
দলিল-
মাজালিসুল আবরার/\আল মানাসিক......
☞ক্লিক করুন⇨ চেয়ারে বসে নামাজ পড়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য
উক্ত হাদিস শরীফ উনার বর্ণনা মোতাবেক হোকবার পরিমাণ পৃথিবীর বছর অনুযায়ী নিম্নরূপ-
৮০ বছর × ৩৬০ দিন = ২৮৮০০ দিন।
আবার, প্রতি দিন হাজার বছরের সমান হলে,
২৮৮০০ × ১০০০ = ২৮৮০০০০০ বছর।
অতএব, এক হোকবা = ২৮৮০০০০০ বছর।
একটু গভীরভাবে চিন্তা করেন তো এক ওয়াক্ত নামাজ ক্বাজা হলে অর্থাৎ ওয়াক্ত মোতাবেক না পড়লে তার ২৮৮০০০০০ বছর জাহান্নামের আজাব সহ্য করতে হবে| তাহলে যারা নামাজ আদায় করে না| ঐ সময় হাশি-তামাশায় সময় কাটিয়ে দিবে| তাদের শাস্তিটা কত ভয়াবহ হবে?? চিন্তা করেন|
☞ক্লিক করুন⇨ নামাজের ৪৩ মাকরূহ সম্পর্কে জানুন ক্লিক এর মাধ্যমে
যা কিনা প্রত্যেকে প্রাপ্ত-বয়স্কদের উপর ফরয করা হয়েছে। কুরআন ও হাদিস শরিফের বিভিন্ন স্থানে, এই নামাজ পড়ার ফজিলত ও না পড়ার কঠোর বিধানের কথা বর্ণনা করা আছে।
আমরা অনেক সময় নিজেদের ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় গুরুত্ব পূর্ণ ইবাদত টি কে আদায় করি না, বা ছেড়ে দেই। নামায না পড়ার শাস্তি যারা নামায পড়েনা তাদের জন্য আল্লাহ্ পাক ১৫টি আজাব নির্দিষ্ট করিয়া রাখিয়াছেন।
পনেরটি আজাবের মধ্যে ৬টি দুনিয়ায়, তিনটি মৃত্যুর সময়, ৩টি কবরের মধ্যে এবং বাকি ৩টি হাশরের মধ্যে দেয়া হবে।
দুনিয়াতে যে ৬টি আজাব দেওয়া হয়। তা উল্লেখ করা হলঃ-
১.তাহার জীবনে কোনো ধরনের বরকত হবেনা ।
২.আল্লাহ্ তার চেহারা হইতে নেক লোকের চিহ্ন উঠাইয়া নিবেন।
৩.যাহা কিছু নেক কাজ করবে , তাহার ছওয়াব পাইবেনা।
৪.তাহার দোআ আল্লাহ্ পাকের কাছে কবুল হবে না।
৫.আল্লাহ্ পাকের সমস্ত ফেরেশতাগন তাহার উপর অসন্তুষ্ট থাকবেন।
৬. ইসলামের মূল্যবান নেআমত সমূহ হইতে বঞ্চিত থাকবেন।
মৃত্যুর সময় যে ৩টি আযাব দেওয়া হয়। তা উল্লেখ করা হলোঃ-
১. অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত হইয়া মৃত্যুবরণ করিবেন।
২. ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যু বরন করিবেন। ৩. মৃত্যুর সময় তাহার এত পিপাসা পাইবে যে, তাহার ইচ্ছা করবে দুনিয়ার সমস্ত পানি পান করিয়া ফেলিতে ।
☞ক্লিক করুন⇨ জীব জন্তুর বা প্রাণীর ছবি থাকলে নামাজ হবে কি না দলীল সহ জানুনঃ-
কবরের মধ্যে যে ৩টি আযাব দেওয়া হয়। তা নিম্নরূপ হলোঃ-
১. তাহার কবর এমন সংকীর্ণ হবে যে তাহার এক পাশের হাড় অপর পাশের হাড়ের সংগে মিলিত হইয়া চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।
২.কবরের মধ্যে দিন-রাত্রি সব সময় আগুন জ্বালাইয়া রাখা হবে।
৩. আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন তার কবরে একজন আজাবের ফেরেশ্তা নিযুক্ত করবেন।যে কিনা তাহার হাতে লোহার মুগুর থাকবে। সে মৃত ব্যক্তিকে বলতে থাকবে, তুমি দুনিয়ার মধ্যে কেন নামায পড় নাই। আজ তাহার ফল ভোগ কর ।
এই বলিয়া ফজর নামায না পড়ার জন্য ফজর হইতে জোহর পর্যন্ত।
জোহর নামাযের জন্য জোহর থেকে আছর পর্যন্ত।
আছরের নামাযের জন্য আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।
মাগরিবের নামাযের জন্য মাগরিব হইতে এশা পর্যন্ত।
এশার নামাযের জন্য এশা হইতে ফজর পর্যন্ত, লোহার মুগুর দিয়ে আঘাত করতে থাকবেন।
আর বাকি তিনটি শাস্তুি দেয়া হবে কিয়ামতের ময়দানে ।
আমাদের মধ্যে যারা মুসলমান আছি, আসুন ভাই আমরা সবাই নিয়মিত এবং সময় মত নামাজ আদায় করি, অপর ভাইদের ও বলি নামাজ পরার জন্য । তাহলেই একমাত্র আমাদের সমাজে প্রকৃত শান্তি ও মুক্তি আসবেই। ইনশাআল্লাহ ❤️❤️
এক আল্লাহর বন্ধু সে নিয়মিত নামাজ পড়ে কিন্তু তার আশেপাশের মানুষেরা নামাজ তো দূরের কথা কোনো ভালো কাজই করে না আল্লাহ তাআলা আদেশ দেন হে ফেরেস্তাগন তোমরা দুনিয়ায় গিয়ে ওই এলাকাকে উল্টিয়ে দাও ফেরেস্তারা বল্ল আল্লাহ আপনার এক বন্ধু আছে ওই এলাকায় আল্লাহ তাআলা বল্লেন তাহাকে সহ উল্টিয়ে দাও কারণ সে একা একা নামাজ পড়ে কাউকে নামাজের কথা বলে না এবং তাঁরাও নামাজ ও ভালো কাজের কথা কারো কাছে থেকে জানতে চায় নাই।।।
আল্লাহ তাআলা কুরআন শরীফে বলেছেন তোমরা নামাজ কায়েম করো। কায়েম মানে সবাইকে একসাথে নিয়ে নামাজ আদায় করা এজন্য আমাদের উচিত সবাইকে একসাথে নিয়ে নামাজ আদায় করা
☞ক্লিক করুন⇨ ছবি যুক্ত [মদিনা শরীফ মক্কা শরীফ] জায়নামাজে নামাজ পড়া যাবে কি না?
পাহাড় উত্তপ্ততায় গলে যাবে
হজরত ইমাম মোহাম্মদ বিন আহমাদ জাহবী رَحْمَۃُ اللّٰہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলিয়াছেন: জাহান্নামে একটি স্থান রয়েছে, যার নাম হল وَیْل ওয়াইল । যদি তাতে দুনিয়াবী পাহাড় নিক্ষেপ করা হয় তবে তাও তার উত্তপ্ততায় গলে যাবে। আর এটা ঐ লোকদের ঠিকানা হবে যারা নামাজে অলসতা করে আর নির্ধারিত সময়ের পরে কাজা করে আদায় করে। তবে যদি তারা নিজ অলসতার জন্য লজ্জিত হয় এবং আল্লাহ্ তা"আলার নিকট তওবা করে {তবে হয়তঃ তারা মুক্তি পেতে পারে} । কিতাবুল কাবাইর, ১৯ পৃষ্ঠা, দারু মাকতাবাতুল হায়াত, বৈরুত
মাথা দ্বি-খন্ডিত করার শাস্তি
নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রউফুর রহীম, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم সাহাবায়ে কিরামদেরকে عَلَیۡہِمُ الرِّضۡوَان ইরশাদ করলেন: আজ রাতে দু''জন ব্যক্তি [ অর্থাৎ হজরত জিব্রাঈল عَلَیۡہِ السَّلَام ও হজরত মিকাঈল عَلَیۡہِ السَّلَام] আমার কাছে আসলেন। আমাকে তাঁরা আরদে মুকাদ্দাসায় [পবিত্র ভূমিতে] নিয়ে গেলেন, আমি দেখতে পেলাম এক ব্যক্তি শুয়ে আছে আর তার মাথার কাছে আরেক ব্যক্তি এক টি পাথর উঠিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং একের পর এক পাথর দিয়ে তার মাথাকে দ্বিখন্ডিত করছে । প্রত্যেক বার দ্বিখন্ডিত হওয়ার পর মাথা পুনরায় ঠিক হয়ে যাচ্ছে । আমি ফিরিস্তাদের কে বললাম:- سُبۡحٰنَ اللہ عَزَّوَجَلَّ এই ব্যক্তি কে? তারা আরজ করলেন আপনি আরো সামনে তাশরীফ নেন। আরও অনেক দৃশ্যাবলী দেখানোর পর ফিরিস্তারা আরয করল: ঐ প্রথম ব্যক্তি যাকে আপনি صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیۡہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم দেখিয়াছেন সে হলো ঐ ব্যক্তি , যে কোরআন শরিফ হিফ্জ করিয়া ভুলে গিয়েছে এবং ফরয নামাজের সময় ঘুমিয়ে পড়তো। তার ওপর এ শাস্তি কেয়ামত পর্যন্ত চলবে।
(বুখারী, ১ম ও ৪র্থ খন্ড , ৪২৫ ও ৪৬৮ পৃষ্ঠা , হাদীস- ১৩৮৬ , ৭০৪৭)
হাজার বছর আজাবের হকদার
আমার আক্বা আ’ লা হজরত, ইমামে আহলে সুন্নাত.. মুজাদ্দেদে দ্বীন ও মিল্লাত.. মাওলানা শাহ ইমাম আহমদ রযা খান رَحْمَۃُ اللّٰہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ ফতওয়ায়ে রজবীয়ার নবম খন্ডের ১৫৮ থেকে ১৫৯ পৃষ্ঠার মধ্যে বলেন। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে ১ ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেয় সে হাজার বছর জাহান্নামে থাকার হকদার হিসেবে গণ্য হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তওবা না করে এবং এর কাজা আদায় না করে থাকে। মুসলমান যদি তার জীবনে একেবারে নামাজ ছেড়ে দেয় তখন তার সাথে কথা না বলা.. তার নিকটে না বসা.. তবে সে এই আচরণের যোগ্য। আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন ইরশাদ ফরমান:
وَ اِمَّا یُنۡسِیَنَّکَ الشَّیۡطٰنُ فَلَا تَقۡعُدۡ بَعۡدَ الذِّکۡرٰی مَعَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۶۸﴾
কানজুল ঈমান থেকে অনুবাদ করা হল, আর যখনই তোমাকে শয়তান ভুলিয়ে দিবে। অতঃপর স্বরণ আসতেই জালিমদের নিকটে বসো না। পারা:৭, সূরা: আন‘আম, আয়াত: ৬৮
কবরে আগুনের লেলিহান শিখা পরা
এক ব্যক্তির বোন মারা গেল। যখন তাকে দাফন করে ঘরে ফিরে আসলো, তখন তার মনে পড়লো যে.. তার টাকার ব্যাগটি কবরে পড়ে গেছে । তাই সে ঠিক করল কবর থেকে থলেটি বাহির করে নিয়ে আসবে, তার জন্য সে কবর স্থানে গিয়ে তার বোনের কবর পুনরায় খনন করতে আরম্ভ করল!!
কবর খনন করার পর তার সামনে একটি হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখতে পেলো। সে দেখতে পেলো তার বোনের কবরে আগুনের লেলিহান শিখা দাউ- দাউ করে জ্বলছে|😭 তারপর সে কবরের মাটি তাড়াতাড়ি চাপা দিয়ে ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে কাদতে কাদতে তার মায়ের কাছে এসে মাকে জিজ্ঞাসা করল.. হে আমার প্রিয় আম্মাজান.. আমার বোনের নেক-আমল কেমন ছিলো? মা বলল: হে পুত্র! কেন জিজ্ঞেস করতেছো ? সে বলল… আমি আমার বোনের কবরে আগুনের লেলিহান শিখা দাউ -দাউ করে জ্বলতে দেখেছি মা। এটা শুনে তার মাও কাদতে লাগলেন এবং বললেন.. আফসোস! তোমার বোন নামাজে অলসতা করতো এবং যথাযথ সময়ে নামাজ আদায় না করে কাজা করে নামাজ আদায় করত । কিতাবুল কাবায়ির, ২৬ পৃষ্ঠা
প্রিয় ইসলামী ভাই-বোনেরা! যখন নামায কাজা ব্যক্তির জন্য এরূপ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে তবে যে সমস্ত হতভাগা মোটেও নামায আদায় করে না, তাদের জন্য কতটা ভয়াবহ শাস্তি আছে চিন্তা করা যায় কি? ভেবে দেখুন..
যদি নামায আদায় করতে ভুলে যান, তবে…?
তাজ-দারে রিসালাত,, শাহেন-শাহে নবুওয়াত,, মোস্তফা জানে রহমত.. হুজুর صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ ফরমাইয়াছেন.. যে ব্যক্তি নামায আদায় করতে ভুলে যায় অথবা নামাযের সময় ঘুমিয়ে পড়ে.. তখন স্মরণে আসতেই তা পড়ে নিবে। । কেননা, ঐ সময়টাই হল তার জন্য নামাযের সময়। [(মুসলিম, ৩৪৬ পৃষ্ঠা, হাদীস-৬৮৪) ] ফুকাহায়ে কিরাম-গণ رَحِمَہُمُ اللہُ تَعَالٰی বলেছেন.. ঘুমন্ত অবস্থায় অথবা ভুলে কারো নামায কাজা হয়ে গেল,, তখন তার উপর ঐ নামায কাজা পড়ে নেয়া ফরয।। অবশ্য কাজা হওয়ার গুনাহ তার জন্য হবে না। কিন্তু জাগ্রত হলে কিংবা স্মরণে আসতেই যদি মাকরূহ সময় না হয় তখন ঐ সময়েই নামায আদায় করে নিতে হবে। দেরি করলে মাকরূহ হবে। [ (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৭০১ পৃষ্ঠা)]
ঘটনাক্রমে চোখ না খুলে তবে…?
ফতওয়ায়ে রজবীয়াতে বর্ণিত আছে… যখন জানে সে, এখন শুয়ে বা ঘুমিয়ে গেলে নামায চলে যাবে। ঐ সময় ঘুমানো বৈধ নয়,, কিন্তু যখন কোন জাগ্রতকারীর উপর ভরসা থাকে … এমন সময় ঘুমাল যে.. অভ্যাস-গত ভাবে নির্দিষ্ট সময়ে চোখ খুলে যায়,, হঠাৎ চোখ খুলে - নি সেই ক্ষেত্রে (সে) গুনাহগার হবে না। [( ফাওয়ায়েদে জলিলীয়া ফতওয়ায়ে রজবীয়া, ৪র্থ খন্ড, ৬৯৮ পৃষ্ঠা )]
অপারগতায় “আদা”এর সাওয়াব পাবে কি?
চোখ না খোলার কারণে ফজরের নামায কাযা হয়ে গেলে "আদা" এর সওয়াব পাবে কি ? এই প্রসঙ্গে আমার আক্বা আ’ লা হজরত, ইমামে আহলে সুন্নত উলীয়ে নে’মাত, আজিমুল বারকাত. আজিমুল মারতাবাত.. পরওয়ানায়ে শময়ে রিসালাত, মুজাদ্দেদে দ্বিনো মিল্লাত.. হামিয়ে সুন্নাত.. মাহিয়ে বিদআত.. আলিমে শরীয়াত… পীরে তরিকত.. বা-ইসে খাইরো বারকাত হজরত আল্লামা মাও-লানা আলহাজ্ব আল হাফেজ আল ক্বারি আশ শাহ ইমাম আহমদ রযা খাঁন رَحْمَۃُ اللّٰہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ ফতোওয়ায়ে রযবিয়া অষ্টম খন্ডের ১৬১ পৃষ্ঠায় বলেছেনঃ-
উপরোক্ত অবস্থায় “আদা”এর সওয়াব পাওয়া এক মাত্র আল্লাহ তা''আলার মর্জির অধিনেই থাকবে । যদি তিনি জানেন যে, সে নিজের ইচ্ছেয় বা পক্ষ থেকে কোন ত্রুটি করেন নি। সকাল পর্যন্ত জাগ্রত থাকার ইচ্ছায় বসা ছিলো আর অনিচ্ছা সত্ত্বে ও চোখে ঘুম চলে আসে তবে অবশ্য তার জন্য গুনাহ নাই । রাসুলুল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেনঃ- “ঘুমন্ত অবস্থায় কোন অপরাধ নেই… অসতর্কতা ঐ ব্যক্তির, যে ()জাগ্রত অবস্থায়() নামায আদায় করে না এমন কি অপর নামাযের সময় চলে আসে। ( মুসলিম, ৩৪৪ পৃষ্ঠা, হাদীস-৬৮১ )
صَلُّوْا عَلَی الْحَبِیْب! صَلَّی اللهُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد
تُوْبُوْا اِلَی الله! اَسْتَغْفِرُ الله
صَلُّوْا عَلَی الْحَبِیْب! صَلَّی اللهُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد
রাতে শেষাংশে শয়ন করা ঠিক?
নামাজের সময় প্রবেশ করার পর কেউ ঘুমাইলে এমন অবস্থায় যদি নামাজের সময় চলে যায় এবং তার নামাজ কাজা হয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই সে গুনাহ-গার হইবে.. যখন সে জাগ্রত হওয়ার প্রতি তার পূর্ণ আস্থা থাকেনা কিংবা কোন জাগ্রত কারি ব্যক্তির উপস্থিত থাকে না । বরং ফজরের ওয়াক্ত প্রবেশের পূর্বে নিদ্রা যাওয়ার জন্য মোটে ও অনুমতি নাই, যখন রাতের অধিকাংশ সময় বি-নিদ্রা অবস্থায় কাটায় এবং ধারণা হয় যে.. এখন ঘুমিয়ে পড়লে নামাজের সময়ের মধ্যে চোখ খুলবে না। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৭০১ পৃষ্ঠা)
রাতের বেশি সময় জাগ্রত থাকা
প্রীয় ইসলামি ভাইয়েরা ! নাত শরিফ -যিকির নছীহত পূর্ন মাহফিল সমূহে কিংবা সুন্নাতে ভরা ইজতিমা ইত্যাদিতে অংশ গ্রহণ কারীরা অধিক রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়ার পর ঘুমের কারণে যদি ফজরের নামাজ কাজা হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে… তখন ই’তিকাফের নিয়্যতে মসজিদের মধ্যে অবস্থান করবে.. অথবা এমন স্থানে ঘুমাবে যেখানে কোন বিশ্বস্থ ইসলামি ভাই জাগ্রত-কারী বিদ্যমান রয়েছে অথবা এলার্ম যুক্ত ঘড়ি তে এলার্ম দিয়ে যার কারণে চোখ খুলে যাবে। কিন্তু একটি ঘড়ির ওপর নির্ভর করা যাবে না.. হয়তো ঘুমন্ত অবস্থায় হাত লাগার কারণে কিংবা নিজে নিজে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দুই কিংবা প্রয়োজন সংখ্যক অধিক ঘড়ি বিদ্যমান থাকলে ভালো। ফুকাহায়ে কেরাম-গণ رَحِمَہُمُ اللہُ تَعَالٰی বলেনঃ- যদি ঘুমের কারণে ফজরের নামায ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাহলে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া রাতের বেশি সময় পর্যন্ত জাগ্রত থাকা সম্পূর্ন নিষেধ। (রদ্দুল মুখতার২য় খন্ড৩৩ পৃষ্ঠা)
আদা, কাযা ও ওয়াজীবুল ইয়াদা এর সংজ্ঞা..
যে সকল বিষয়ে বান্দাদের কে আদেশ প্রদান করা হইয়াছে যথাসময়ে তা পালন করার নামই হলো "আদা"
আর সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর তা পালন করে নেয়ার নাম কাজা। আর যদি ঐ হুকুম পালন করতে গিয়ে কোন রকমের সমস্যা সৃষ্টি হয়।। তখন ঐ সমস্যা কে দূরীভূত করার জন্য পুনরায় ঐ হুকুম পালন করে দেয়াকে ওয়াজীবুল ইয়াদা বলা হয়ে থাকে। ওয়াক্তের মধ্যে যদি কোন রকমে তাকবীরে তাহরীমা বেঁধে নিতে সক্ষম হয় তখন নামাজে কাজা হবে না বরং আদা হয়ে যাবে।
(দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, ৬২৭ ও ৬৩২ পৃষ্ঠা)
কিন্তু ফজর, জুমা ও দুই ঈদের নামাযে ওয়াক্তের ভিতরেই সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করা আবশ্যক । অন্যথায় নামায হবেনা। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৭০১ পৃষ্ঠা)
শরয়ী কোন কারণ ছাড়া অহেতুক নামায কাযা করা খুবই কঠিন গুনাহ,, তার উপর ফরয হলো..
কাজা আদায় করে দেয়া এবং সত্য মনে তওবা করা.. তাওবার মাধ্যমে অথবা হজ্বে মকবুল দ্বারা اِنْ شَآءَ اللّٰہ عَزَّوَجَلَّ নামাজ কাজা করার গুনাহ্ ক্ষমা হয়ে যেতে পারে। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, ৬২৬ পৃষ্ঠা) আর তওবা তখন শুদ্ধ হবে যখন কাজা আদায় করে নিবেন । কাজা আদায় করা ব্যতীত তওবা করলে তওবা হবেনা।
কেননা.. যে নামায তার দায়িত্ব ছিলো তা আদায় না করার কারণে এখনো পর্যন্ত তার দায়িত্বে অবশিষ্ট রয়ে গেল । সুতরাং সে যখন গুনাহ হতে ফিরে এলো না, তখন তার তওবাও হলো কোথায়? (রদ্দুল মুহতার, ২য় খন্ড, ৬২৭পৃষ্ঠা) হযরত সায়্যিদুনা ইবনে আব্বাস رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُمَا থেকে বর্ণিত; তাজেদারে রিসালাত, শাহিন-শাহে নবুওয়াত, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ ফরমাইয়াছেন: "গুনাহের উপর অটল থেকে তওবা-কারী ব্যক্তি আপন রবের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপকারী ব্যক্তির মত। (শুয়াবুল ঈমান, ৫ম খন্ড, ৪৩৬ পৃষ্ঠা, হাদীস-৭১৭৮)


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Islamic history of Muslim website team,
thanks for support pls waiting 24 hrs give the Islamic history team time Very soon your message reply