রোজা কবুলের আমল | রোজা রেখে কি কি কাজ করা যাবেনা | রোজাদারদের ফজিলত ও মর্যাদা

 


আমরা অনেকেই মনে করি যে, কিছু পানাহার ও জৈবিক চাহিদা পুরণ থেকে বিরত থাকাকেই রোজা মনে করে থাকি । কিন্তু এটাই রোজার শেষ কথা নয়…


রোজার কয়েক টা স্তর আছে…

ইমাম গাজ্জালি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি  ওনার বিখ্যাত কিতাব এহইয়াউ উলুমিদ্দিন গ্রন্থের মধ্যে  রোজার ৩টি স্তর বর্ণনা করেছে…

 

১) সাধারনের রোজা ২)বিশেষ শ্রেণীর রোজা

৩) অতি বিশেষ শ্রেণির রোজা।


১)সাধারণের রোজা হল…

পানাহার ও জৈবিক চাহিদা হতে বিরত থাকা।

২)  বিশেষ শ্রেণির রোজা হল-

পেট ও লজ্জা স্থান এর চাহিদা পূরনের সঙ্গে সঙ্গে তার চোখ, জিহ্বা,কান, হাত, পা এক কথায় তার সব অঙ্গ পাপ মুক্ত রাখা।

৩) অতি বিশেষ শ্রেণির রোজা হল- 

নিজের অন্তরকে দুনিয়া ও তার মোহ-মায়া থেকে মুক্ত করা।এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছু হতে বিমুখ হওয়া।



ইমাম গাজ্জালি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি রোজার ৩ শ্রেণী উল্লেখ করে বল্লেন, প্রথম প্রকার এর রোজা কোনো মোমিনের প্রত্যাশা হতেই পারেনা। আর ৩য় শ্রেণীর রোজা দীর্ঘ সাধনার ব্যাপার…

মোমিনের প্রাথমিক লক্ষ্য এবং চিন্তা হওয়া উচিত ২য় শ্রেণীর রোজা পালন করা….

তার পর তিনি ২য় শ্রেণী তথা খোদা-ভীরু এবং পুণ্যবান ব্যক্তির রোজার ৬টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। তা হলো-


. চোখের গুনাহ হতে বাঁচিয়া থাকা :


আল্লাহ তাআলা  যার প্রতি তাকাতে নিষেধ করেছেন বা তিনি তাকানো অপছন্দ করেন এমন সব কিছু থেকে দৃষ্টিকে অবনত রাখা ও সেই সব বিষয় থেকেও দৃষ্টিকে সংরক্ষণ করা যা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে দেয়।

হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন…দৃষ্টি শয়তানের বিষাক্ত তীর । যে আল্লাহ তাআলার ভয়ে দৃষ্টি সংরক্ষণ করবে সে ইমান ও তার মিষ্টতা লাভ করবে। [মুসনাদে হাকিম]


২. জিহ্বাহের হেফাজত করা:-


মিথ্যাকথা, অশ্লীলতা, পরনিন্দা করা, অপবাদ দেয়া, গালি ও অনর্থক কথা বলা থেকে নিজের জবানকে সংরক্ষণ করা। হযরত মুজাহিদ [রাহ.] বলেছেন, ২টি স্বভাব রোজার মাহাত্ম্য পুরোপুরি ভাবে নষ্ট করে থাকে….. মিথ্যাকথা ও পরনিন্দা।


. কান সংরক্ষণ করা :


আল্লাহ তায়ালার অপছন্দনীয় সকল বিষয় থেকে নিজের কানকে হেফাজত করা.. গান-বাদ্য , মিথ্যা-পরনিন্দা, অর্থ-হীন গাল-গল্প থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারিমে  মিথ্যাবাদী ও শ্রবণ-কারীকে নিন্দা করে বলেন। ‘তারা মিথ্যা শ্রবণকারী ও অবৈধ সম্পদ ভক্ষণকারী। ’ -সূরা মায়েদা; 46


৪. অন্যান্য অঙ্গ সমূহকে হারাম থেকে বাচিয়ে রাখাঃ- 


হাত,পা সহ বাকি অঙ্গ সমূহকে হারাম থেকে বাচিয়ে রাখা রোজাদারের জন্য আবশ্যক। যেমন, ক্ষমতা বা শক্তি আছে বলে অন্যায় ভাবে কাউকে আঘাত করবে না, অন্যায় কাজে যাবে না এবং হারাম খাবার খাওয়া যাবেনা। রোজার উদ্দেশ্য হলো গুনাহ পরিহার করিয়ে মানুষকে সঠিক পথ দেখানো। পাপ পরিহার না করলে রোজার কল্যাণ লাভ করা যায়না।

হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিছু  রোজাদার ব্যক্তি ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ব্যতীত তাদের আর কোনো প্রাপ্তি থাকে না। ’ [মুসনাদে আহমদ]


৫. ইফতার ও সাহরি সুন্নাত তরীকা মত খাবার খাওয়াঃ-


রোজাদার ব্যক্তি ইফতার ও সাহরি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত তরিকা মত খাবার খাবে । কেননা হযরত মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কম খেতে উৎসাহিত করেছেন…(পেটের ৩ ভাগের ১ ভাগ খাবার খাওয়া)

রোজাদার ব্যক্তি যথা সম্ভব দিনের বেলায় কম ঘুমাবে। এতে ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও দুর্বলতা বেশি অনুভূত হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন যেই ইবাদতে যত কষ্ট সেই ইবাদত আল্লাহর তত প্রিয় এবং মানুষ যখন কষ্ট করে রোজা রাখবে তখন গরিব অসহায় মানুষ কেমন করে দিন কাটায় তা বুজবে,, এবং সাহাবায়ে কেরাম-গন যখন দিনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য দিনের পর দিন না খেয়ে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছে তার গুরুত্ব বুজবো যার ফলে অনেক লাভ তার মধ্যে সাহাবায়ে কেরামের  প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান বেড়ে যাবে ও তাদের মত জীবন গড়ার প্রত্যাশা জাগবে মনে।। এবং আমরা রাতে কিছু পরিমাণ হলেও তাহাজ্জুদ আদায় করবে। যেন আমাদের অভ্যাস হয়ে যায়।।



৬. মনের মধ্যে আশা ও ভয় নিয়ে ইফতার করাঃ-

ইফতারের সময় রোজা কবুল হওয়ার এবং প্রত্যাখ্যান হওয়ার ভয় নিয়ে ইফতার করবেন।। কেননা আল্লাহ তায়ালা মাহে-রমজানে বান্দার প্রতি অনুগ্রহশীল হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।।  যেমনঃ- ঠিক তেমনি পাপ মার্জনা করাতে না পারলে শাস্তিরও ঘোষণা দিয়েছেন। কেননা ঈমান আশা ও ভয়ের মধ্যবর্তী অবস্থানের নাম।

ছয়টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করার পর ইমাম গাজ্জালি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি  বলেছেন, এই ৬টি হল- সেই আমানত যা রক্ষা করতে পবিত্র হাদিস শরীফে নির্দেশ রয়েছে । হজরত মুহাম্মাদুর  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন, ''নিশ্চয় রোজা আমানত'' তোমরা তোমাদের আমানত রক্ষা করো। [খারায়িতি]

আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুসলমান ব্যক্তিকে রোজার আমানত রক্ষা করে রোজা পালনের তওফিক দান করুক। আমিন….





মন্তব্যসমূহ