খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাদ্বিঃ)
সাওদা বিনতে জামআ (রাদ্বিঃ)
আয়েশা বিনতে আবু বকর(রাদ্বিঃ)
হাফসা বিনতে উমর(রাদ্বিঃ)
জয়নব বিনতে খুযায়মা(রাদ্বিঃ)
উম্মে সালমা হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়া(রাদ্বিঃ)
রায়হানা বিনতে জায়েদ(রাদ্বিঃ)
জয়নব বিনতে জাহশ(রাদ্বিঃ)
জুওয়াইরিয়া বিনতে আল হারিস(রাদ্বিঃ)
রামহাল ( উম্মে হাবীবা) বিনতে আবু (রাদ্বিঃ)সুফিয়ান
সাফিয়া বিনতে হুইয়াই(রাদ্বিঃ)
মাইমুনা বিনতে আল হারিস(রাদ্বিঃ)
মারিয়া আল কিবতিয়া(রাদ্বিঃ)
এখানে রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ১৩ জন স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও অনেকে এখানে সংখ্যা টাকে ১০-১১ অথবা ১৩ বলে উল্লেখ করে। তবে আবার অনেকেরই মতে এদের মধ্যে দুইজন ছিলো দাসী। তবে যাই হোক এখানে ১৩ জন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হইয়াছে।
১। খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাদ্বিঃ)
Khadija Binty Khuyailid যার বাংলা অর্থ হলো অসম্পূর্ণ এমন কিছুকে বোঝায় । নবীর স্ত্রী দের মধ্যে মা খাদিজা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আানহু শুধু তাহিরা নামে উপাধি লাভ করেন । যার অর্থ হল পবিত্র এমন কিছু । তিনি কয়েক টি নামে পরিচিত ছিলেন । এর মধ্যে ১টি হলো মা খাদিজাতুল কোবরা। তিনি নবীজীর প্রথম স্ত্রী ছিলেন। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুখ-দুঃখের সাথি ছিলেন মা খাদিজাতুল কোবরা । তিনি ছিলেন ১জন সফল ব্যবসায়ি । পাশা-পাশি ১জন উত্তম স্ত্রীও । রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নব্যুয়াত লাভের পর সর্বপ্রথম মা খাদিজাতুল কোবরা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু সর্বপ্রথম দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদেরকে আদেশ করেছেন রাসূল সা: এর স্ত্রীদের কে মা বলে বলা সম্বোধন করার জন্য । মুসলীম মেয়েদের মা খাদিজাতুল কোবরা থেকে যথেষ্ট পরিমাণ শিক্ষা নেওয়া উচিত।
২। সাওদা বিনতে জামআ (রাদ্বিঃ)
Sawda Binty Jam’wa যার বাংলা অর্থ হচ্ছে খেজুর গাছের পূর্ণ ভূমি জাতীয় এমন কিছু,, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবাহের পূর্বে তার আরেক টি বিবাহ সম্পূর্ণ হয়েছিল। কিন্তু দূর্ভাগ্য বশত তার প্রথম স্বামী আস - সাকরানের মৃত্যু হয় । এবং তাদের একটি ছেলে সন্তান ও ছিল। আব্দুর রহমান । তিনি জালুলা যুদ্ধে নিহত হন। সাওদা বিনতে জাম'আ একমাত্র নবীর স্ত্রী যে উম্মুল মু'মীনিন মর্যাদায় ভূষিত হোন। তার প্রথম স্বামী আস সাকরানের মৃত্যুর পর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন।
৩।আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাদ্বিঃ)
Aysha Binty Abu Bokar যার বাংলা অর্থ হলো জীবন্ত কিংবা প্রাণবন্ত এমন কিছু। রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তৃতীয় স্ত্রী হলো আয়েশা বিনতে আবু বকর। উপরোক্ত সাধারণ নিয়ম অনুযায়ি বাবার নাম আসল নামের শেষে বসেছে। এখান থেকে বর্তমানে যে সকল নারীরা তাদের নামের শেষে স্বামীর নাম যোগ করে,, তাদেরকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। আয়েশা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর বাবার নাম হলেন হযরত আবু বকর (রা:) । তার নামের অংশটা আয়েশা বিনতে আবু বকর রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু নামের শেষে যোগ হয়েছে । অর্থাৎ পিতার নাম । তার পিতা হযরত আবু বকর রা: ছিলেন নবী সা: এর একজন ঘনিষ্ট এবং বিশ্বস্ত সাহাবী। মা আয়েশা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর ইসলামে অবদান রয়েছে অনেক। তার ঐতিহাসিক অবদান অনস্বীকার্য। তিনি নবী সা: কে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করেছিলেন। তাইতো আল্লাহ তা’ আলা তাহার মর্যাদা অনেক গুন বাড়িয়ে দিয়েছেন।
৪।হাফসা বিনতে উমর
Hafsa Binty Umor যার বাংলা অর্থ হল একত্রিত বা একসাথে। তাহার নামের দ্বিতীয় অংশটি অর্থাৎ উমর, তিনি হলেন রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুবই কাছের একজন সাহাবী ও খলিফা। তার সম্পূর্ণ নাম হলো হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু। তার মেয়ে হাফসা বিনতে উমর ছিলেন নবাজির স্ত্রী,, মা হাফসা বিনতে উমর রা:। পূর্বে আরেকটি বিয়ে হয়েছিলেন। যার সাথে বিয়ে হয়েছিল তার নাম ছিল হুনাইস ইবনে হুজাইফা। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত কিছু দিন পর তাহার মৃত্যু হয়। তার পর মা হাফসা বিনতে উমর রা: বিধবা হয়ে যান। তখন তিনি হাফসা বিনতে উমর রা: কে বিয়ে দেওয়ার জন্য হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুকে প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর হযরত আবু বকর রা: কে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দেন । তিনিও একই ভাবে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তখন হযরত ওমর রা: মহানবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিবাহের প্রস্তাব দেন । তারপর হযরত মুহাম্মদ সা: হাফসা বিনতে উমর রা: কে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন খুবই মহৎ একজন নারি। ইসলামের জন্য তার আত্মত্যাগ দেখনীয় ।
যয়নব বিনতে খুযায়মা
Zaynob Binty Khujayma যার অর্থ হল সুগিন্ধি বা আকর্ষিত কোন এক ধরনের ঘ্রাণ । তার ও প্রথমে একটি বিবাহ হয়েছিলেন। উহুদ যুদ্ধে তাহার প্রথম স্বামীর মৃত্যু বরণ ঘটে। তিনি ছিলেন তখনকার আরব দেশের সোলাইম বংশের একজন মেয়ে। আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ ছিলেন জয়নব বিনতে খুযায়মা রাদ্বি: প্রথম স্বামী । সাহাবা গনের সাথে উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তারপর সেই পবিত্র যুদ্ধেই তিনি শহীদ হন। আল্লাহ তাআলা তাহাকে বেহেস্তের উচ্চ মকাম নছিব করুক, আমিন। সাথে সাথে আমাদের সকলকে মাফ করে দেন। এরপর প্রস্তাবের মাধ্যমে রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জয়নব বিনতে খুযায়মা রাদ্বি: কে বিবাহ করেন ৪০০ দেরহাম মোহরানা দিয়ে । তখন ছিল জ্বিলহজ্জ্ব মাসের প্রায় শেষের দিক। কিন্তু বিয়ের ৩ মাস পর মা হযরত জয়নব বিনতে খুযায়মা আল্লাহ তাআলার ডাকে সারা দিয়ে পৃথিবী থেকে পর্দা করেন। ব্যাপারটি অনেক কষ্টদায়ক ছিল। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে জান্নাতুল বাকিতে কবর দেন।
উম্মে সালমা হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়া
Umme Salma Hind Binty Abhi Umaiya যার বাংলা অর্থ হচ্ছে সফট অথবা নরম হাত ও পা বিশিষ্ট মা। তাহার আসল নাম হলো হিন্দ আল মাখজুমিয়া।তাহার প্রথম স্বামীর নাম হলো আবু সালামা ইবনে আল আসাদ।যিনি ছিলেন এক জন সাহাবা । তিনি রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইসলাম প্রচারের প্রথম যুগেই ইসলাম গ্রহন করেন। শুধু তিনিই নন তাহার স্ত্রী মা উম্মে সালমা হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়াও এক সাথে ইসলাম প্রচারের প্রথম যুগেই ইসলাম গ্রহণ করেন। উহুদ যুদ্ধে তাহার স্বামী সালামা ইবনে আল আসাদ অংশগ্রহণ করে এবং মারাত্নক ভাবে যখম হযন। শেষ অবধি তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তার মৃত্যুর সময় ওনার সন্তান ছিল মোট ৪জন।এমতোবস্থায় তিনি খুবই বিপর্যস্ত ও অসহায় অবস্থায় পড়ে যান। এমন পরিস্থিতি থেকে তাকে রক্ষা করতে হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা উম্মে সালমা হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়া রা: কে বিবাহ করেন।
রায়হানা বিনতে জায়েদ
Rayhana Binty Jayed যার বাংলা অর্থ ফুলের তোড়া এমন কিছুকেই বোঝায়। মূলত তিনি ছিলেন একজন ইহুদি বংশের নারী। কিন্তু যখনই তিনি ইসলাম কবুল করেন,, তখন রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা হযরত রায়হানা বিনতে জায়েদ কে বিবাহ করেন। তিনি খুব সুন্দর ও সাবলীল ভাবে ইসলাম পালন করেছেন। তাহার থেকে বর্তমানের আধুনিক নারীদের অনেক শিক্ষা নেওয়ার রয়েছে।
জুওয়াইরিয়া বিনতে আল হারিস
Juyairiya Binty Al Haris যার বাংলা অর্থ হল প্রবাহিত ধারা এমন কিছু। তিনি হলো আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ও আমাদের মা। তিনি ছিলেন আরবের বনু মুস্তালিক বংশের প্রধানের মেয়ে। বনু মুস্তালিক গোত্রের প্রধান ছিলেন আল হারিস ইবনে আবি দিয়ার। তার কন্যাই হল মা জুওয়াইরিয়া বিনতে আল হারিস । ৫ হিজরি সনে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুওয়াইরিয়া বিনতে আল হারিস রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর সাথে বিবাহ করেন।
সাফিয়া বিনতে হুইয়াই
Safia Binty Huwyai যার বাংলা অর্থ হচ্ছে ছাটাইকৃত এমন কিছু। তিনি ও ছিলেন ইহুদি বংশের মেয়ে। সাফিয়া বিনতে হুইয়াই রা: প্রথমে কিনানা ইবনে আবিলের স্ত্রী ছিলেন তিনি। পরে তাঁর সাথে তালাক প্রাপ্ত হয়ে রাসূল সা: কে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন ইহুদি গোত্রের প্রধান হুয়াই এর মেয়ে। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বিয়ের পর তিনি খুব ভাল ভাবে ইসলাম পালন করেছেন এবং ইসলাম ধর্মে তার অনেক অবদান রয়েছেন।
মাইমুনা বিনতে আল হারিস
Maimuna Binty Al Harish এর বাংলা অর্থ হলো বরকত প্রাপ্তা। মা মাইমুনা বিনতে আল হারিস ছিলেন নবীর স্ত্রীদের মধ্যে শেষ স্ত্রী। তিনি হলো আমাদের মাঁতা। তাহার প্রকৃত অথবা আসল নাম ছিল বাররাহ। কিন্তু যখন হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামমা মাইমুনা বিনতে আল হারিস বিবাহ করেন,তখন তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মাইমুনা বিনতে আল হারিস। প্রতিটা মুসলিমের মা হলেন মাইমুনা বিনতে আল হারিস। কেননা নবীদের স্ত্রীগণ হলো মুসলিমদের জন্য মাতা।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Islamic history of Muslim website team,
thanks for support pls waiting 24 hrs give the Islamic history team time Very soon your message reply